বাকশাল দর্শন
শোষণমুক্ত সমাজ ও সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক ভিত্তি।
দ্বিতীয় বিপ্লব: একটি নতুন সূর্যালোক
১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে যে ব্যবস্থার সূচনা হয়; তা ইতিহাসে 'দ্বিতীয় বিপ্লব' নামে পরিচিত। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন ছিল না। এটি ছিল ঔপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে শোষিত মানুষের সরাসরি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার পদক্ষেপ।
বাকশালের মূল লক্ষ্য ছিল চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ; বাধ্যতামূলক বহুমুখী গ্রাম সমবায়; বিচার ব্যবস্থার সংস্কার এবং একটি জাতীয় রাজনৈতিক মঞ্চের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
গঠনতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো
সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা জাতীয় দল গঠনের বিধান রাখা হয়। এর লক্ষ্য ছিল বহুদলীয় বিভেদ দূর করে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। কৃষক; শ্রমিক; বুদ্ধিজীবী এবং সামরিক-বেসামরিক অংশকে একই রাজনৈতিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাকশালের গঠনতন্ত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গ্রামে গ্রামে বাধ্যতামূলক বহুমুখী সমবায় গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য জেলা গভর্নর ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর মাধ্যমে শাসনব্যবস্থাকে সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা তৈরি হয়।
The Transformation
ভিশন ২০৪০: আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
আমরা অতীতকে হুবহু ফিরিয়ে আনছি না। আমরা দ্বিতীয় বিপ্লবের অসম্পূর্ণ শাসনতান্ত্রিক দর্শনকে ২০৪০ সালের বাস্তবতায় নতুন রূপ দিচ্ছি। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করব।
স্থানীয় সরকার হবে ক্ষমতার মূল কেন্দ্র। ২০৪০ সালের মডেলে আপনি রাষ্ট্র পরিচালনার একজন সক্রিয় সহ-নির্মাতা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আপনার ডেটা এবং মতামত সরাসরি জাতীয় নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রকাঠামো হবে বিকেন্দ্রীকৃত; স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক।